
কক্সবাংলা ডটকম(২১ আগস্ট) :: ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) তাদের পুরনো কিন্তু শক্তিশালী সুখোই সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
এই যুদ্ধবিমানগুলোর ক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়া থেকে একটি অত্যাধুনিক ইঞ্জিন, AL-41, কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই ইঞ্জিনটি বর্তমানে রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের সু-৫৭ স্টিলথ ফাইটার জেটে ব্যবহৃত হয়।
এই উদ্যোগটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতীয় বিমানবাহিনী ৮৪টি সুখোই যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণের জন্য ৬৬,৮২৯ কোটি টাকার একটি বিশাল পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিমানগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং সেগুলোকে আরও উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা। এই আধুনিকীকরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ইঞ্জিন পরিবর্তন।
বর্তমানের এএল-৩১এফপি ইঞ্জিনের বদলে নতুন এএল-৪১ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, এই নতুন ইঞ্জিনগুলো ভারতেই তৈরি করা হবে।
ভারতের সরকারি সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর নাসিক কারখানায় এই ইঞ্জিনগুলো তৈরি করা হবে, যা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং সামরিক খাতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
এএল-৪১ ইঞ্জিনটির বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এটি পুরোনো ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর কর্মদক্ষতাও অনেক ভালো।
এর ফলে বিমানগুলোর জ্বালানি খরচ কম হবে এবং উড়ার ক্ষমতা বাড়বে।
নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হলে সুখোই সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা অনেকটাই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কাছাকাছি চলে আসবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এএল-৪১ ইঞ্জিনটি সুখোই সু-৩০এমকেআই-এর কাঠামোর সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়, তাই এর জন্য বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।
এই প্রস্তাবটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে এটি ভারতের বিমানবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তি আরও মজবুত করবে।
অন্যদিকে, এই চুক্তির পেছনে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।
যেমন, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। বর্তমানে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার দিকে ঝুঁকছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে একটি বড় চুক্তি করলে তা নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
তাই, ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ এই প্রস্তাবটি খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির উন্নতি, খরচ এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করবে।
এই চুক্তিটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতের সামরিক শক্তি যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও একটি বড় অগ্রগতি হবে।

Posted ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta